Posts

চাণক্য নীতিশাস্ত্র

Image
🚩 চাণক্য নীতিশাস্ত্র 🚩 ১. অতি পরিচয়ে দোষ আর ঢাকা থাকে না। ২. অধমেরা ধন চায়, মধ্যমেরা ধন ও মান চায়। উত্তমেরা শুধু মান চায়। মানই মহতের ধন। ৩. অনেকে চারটি বেদ এবং ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করলেও আত্মাকে জানে না, হাতা যেমন রন্ধন-রস জানে না। ৪. অন্তঃসার শূন্যদের উপদেশ দিয়ে কিছু ফল হয় না, মলয়-পর্বতের সংসর্গে বাঁশ চন্দনে পরিণত হয় না। ৫. অবহেলায় কর্মনাশ হয়, যথেচ্ছ ভোজনে কুলনাশ হয়, দারিদ্র্যে বুদ্ধিনাশ হয়। ৬. অভ্যাসহীন বিদ্যা, অজীর্ণে ভোজন, দরিদ্রের সভায় বা মজলিশে কালক্ষেপ এবং বৃদ্ধের তরুণী ভার্যা বিষতুল্য। ৭. অহংকারের মত শত্রু নেই। ৮. আকাশে উড়ন্ত পাখির গতিও জানা যায়, কিন্তু প্রচ্ছন্নপ্রকৃতি-কর্মীর গতিবিধি জানা সম্ভব নয়। ৯. আদর দেওয়ার অনেক দোষ, শাসন করার অনেক গুণ, তাই পুত্র ও শিষ্যকে শাসন করাই দরকার, আদর দেওয়া নয়। ১০. আপদের নিশ্চিত পথ হল ইন্দ্রিয়গুলির অসংযম, তাদের জয় করা হল সম্পদের পথ, যার যেটি ঈপ্সিত সে সেই পথেই যায়। ১১. আড়ালে কাজের বিঘ্ন ঘটায়, কিন্তু সামনে ভাল কথা বলে, যার উপরে মধু কিন্তু অন্তরে বিষ, তাকে পরিত্যাগ করা উচিত। ১২. ইন্দ্রিয়ের যে অধীন তার চতুরঙ্গ সেনা থাকলেও সে বিনষ্ট হয়। ১৩. উপায়জ্ঞ ম...

কে প্রকৃত বন্ধু?

Image
কে প্রকৃত বন্ধু ? বন্ধু ৩ প্রকারের আছে। ১) বন্ধু ২) সখা ৩) সুহৃদ। #বন্ধু - বন্ধু মানে যে আসে যায় কিছুদিন আপনার সাথে থেকে তালে তাল দিল এ রকম বন্ধুই বেশি আসে জীবনে। যেমন, স্কুল, কলেজ পড়ে পকেটা গরম আছে কিছু দিন থাকল (এরা হলো বসন্তের কোকিল) যেই পকেট খালি ব্যাস, বন্ধুও খালি। বসন্ত কালে কোকিল যেমন কুহ কুহ করে গান গায়, আর যেই গরম কাল আসে তখন কোকিল উড়ে যায়, কেননা কোকিল সুখী, ঠিক বন্ধুও এইরকম। #সখা - সখা আপনাকে অন্ধের মত ভালোবাসে। আরে তুই যা করবি তাই ঠিকরে। ওরা সব ভুল বলছে, তুই ঠিক। সে আপনি ভুল করেন আর ঠিক করেন, সে আপনার পাসে সব সময় থাকবে। আপনি মনে মনে ভাবছেন যে কাজটা ভুল ছিলো, কিন্তু সে বলবে না না তুই ঠিক করেছিস। কেননা সে আপনাকে এতো ভালোবাসে, আপনি খারাপ করছেন না ভাল করছেন সব সময় আপনাকে সাপোর্ট করবে। খারাপ ভালো তুমিই ঠিক। যেমন : কর্ণ আর দুর্যোধন। #সুহৃদ - সুহৃদ মানে যে প্রকৃত পক্ষে ভালো চায়, সে আপনাকে বলবে এই এটা তুমি ভুল করেছো। আপনার খারাপ লাগলেও সে আপনাকে বলবে যেটা ভুল করছো, সেটা ঠিক নয়। আর যখন ভালো কিছু করবেন সে তখন আপনাকে উৎসাহ দিবে। সুতরাং আপনি কেমন এবং কার সাথে আপনি বন্ধুত্ব করবেন সেটা নি...
Image
#প্রণাম_প্রসঙ্গ..... #প্রণাম কত প্রকার? #পুরুষ ও নারীর প্রণাম বিধি কি? #বিগ্রহের সম্মুখে ফিরে কেন প্রণাম করা হয় না? #কোন শাস্ত্রে প্রণাম বিধি দেওয়া আছে? #শাস্ত্র অনুযায়ী প্রণাম করার বিধি দুই প্রকারঃ-(১)সাষ্টাঙ্গ প্রণাম,(২)পঞ্চাঙ্গ প্রণাম।* #সাষ্টাঙ্গ প্রণামঃ-(১)দুই বাহু,(২)দুই চরণ,(৩)দুই জানু,(৪)বক্ষ,(৫)মস্তক,(৬)দৃষ্টি (৭)মন ও (৮)বচন।এই আটপ্রকার অঙ্গ দ্বারা দণ্ডবৎ (লাঠিকে দাঁড় করিয়ে ছেড়ে দিলে যেমনভাবে পড়ে যায়,অর্থাৎ পূর্ণ সমর্পন) প্রণতি নিবেদন করাকে "সাষ্টাঙ্গ প্রণাম "বলা হয়।বাহু,চরণ,জানু,বক্ষ,শির (মস্তক)মাটিতে স্পর্শ করে চক্ষু ঈষৎ উন্মীলিত করে সোজাভাবে প্রণাম নিবেদন কর্তব্য।🙇প্রণামের ভাবধারা এইরকম থাকে যে ভগবানের পাদপদ্মযুগলে মাথা রেখে,ডান হাতে ভগবানের ডান চরণ ও বাম হাতে ভগবানের বাম চরণ ধারণ করে প্রার্থনা করতে হবে "হে প্রভূ!মৃত্যুরূপ সাগর থেকে ভীত ও শরণাগত,আমাকে রক্ষা করুন।" 'প্রপন্নং পাহি মামীশ ভীতং মৃত্যুগ্রহার্ণবাৎ।'(ভাগবত ১১/২৭/৪৬) এই প্রণাম নিবেদন করা একমাত্র পুরুষদের বিধেয়।* ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆ *💥পঞ্চাঙ্গ প্রণামঃ-🙏(১)দুই জানু,(২)দুই বাহু,(৩)মস্তক,(৪)...

হাতে লাল সুতো বাধা হয় কেন?

Image
হরেকৃষ্ণ হাতে লাল সুতো বাঁধা হয় কেন? হিন্দুদের মধ্যে হাতে লাল সুতো বাঁধার প্রচলন রয়েছে, রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে আপনি হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন অনেক লোকের কবজিতে এক গুছো লাল সুতো বাঁধা থাকে | সাধারণত হিন্দু ধর্মের লোকেরা বিপদতারিনী পূজোর লাল সুতো হাতে বেধে থাকে | তাদের বিশ্বাস এই অলৌকিক সুতো সমস্ত অমঙ্গল ও বিপদ আপদ থেকে তাদের নিরাপদ রাখবে | বিভিন্ন যজ্ঞ ও পূজো ছাড়াও পুরাণে লাল সুতো ব্যবহারের আরো কিছু উদাহরণ পাওয়া যায় | প্রথমতঃ ভক্ত প্রহ্লাদের নাতি বলি মহারাজ ব্রহ্মার আশীর্বাদে সর্গ মর্ত্য ও পাতালের অধিকারী হয়েছিলেন | দেবরাজ ইন্দ্রের সিংহাসন রক্ষা করতে ভগবান বিষ্ণু বামন রূপে জন্মগ্রহণ করে বলিরাজকে পাতালে পাঠিয়ে দেন | ভগবান বিষ্ণু বলিরাজকে অমরত্ব দান করেন | আশীর্বাদ স্বরূপ তিনি তার হাতে বেধে দেন লাল সুতো | তাই ভগবানের আশীর্বাদ হিসেবে হিন্দুদের মধ্যে হাতে লাল সুতো বাঁধার প্রচলন রয়েছে। দ্বিতীয়তঃ একসময় দেবতা ও অসুরদের মধ্যে প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হয়,অসুরদের পরাক্রম দেখে দেবরাজ ইন্দ্র খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন | স্বামীকে চিন্তিত দেখে স্ত্রী ইন্দ্রাণী তার জন্য প্রার্থনা শুরু করেন | ইন্দ্রাণী তার আধ্যাত্বিক শ...

১৯৩৭ সালে চেলসি বনাম চার্লটনের ম্যাচের দুংখদায়ক ঘটনা

Image
ছবিটি ১৯৩৭ সালে চেলসি বনাম চার্লটনের ম্যাচের। ঘন কুয়াশার কারণে রেফারি মাঝপথে খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। সবাই ড্রেসিং রুমে ফিরে যায়। কিন্তু চেলসির গোলরক্ষক স্যাম বাট্রাম রয়ে যান গোল পাহারায়। কুয়াশা যত বাড়ছে-তার সতর্কতাও তত বেশি বাড়ছে। পেছনে মানুষের কোলাহলে তিনি শুনতে পাননি রেফারির খেলা সমাপ্তির বাঁশী। অনেকক্ষণ পর- মাঠের একজন নিরাপত্তা কর্মী এসে তাঁকে জানায় ম্যাচটি প্রায় পনের মিনিট আগেই শেষ হয়ে গেছে। স্যাম বাট্রাম বলেন- না এটা হতে পারেনা। আমি বিশ্বাস করিনা। খেলা শেষ হয়ে গেলে বন্ধুরা অবশ্যই আমাকে বলতো। আমাকে মাঠে একা রেখে ওরা চলে যেতোনা। একজন মানুষও কি ছিলোনা- যে আমার খোঁজ করবে। এরপর, সত্যি যখন বুঝলেন-আসলেই খেলা শেষ হয়ে গেছে। তখন, স্যাম গভীর এক দুঃখ পেলেন। খেলা শেষ হওয়ার জন্য না। বরং বন্ধুরা যে সত্যিই তাকে না জানিয়ে চলে গেছে সে জন্য। যাদের জন্য তিনি গোল পাহারায় দাঁড়িয়ে ছিলেন- তারা সবাই চলে গেলো। কেউ তার কথা একটিবার মনেও রাখলোনা। জীবনটাও বুঝি এমনি এক খেলার মাঠ। যেখানে সময় দিয়ে, সামর্থ্য দিয়ে যাদের ডিফেন্ড করা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়- সামান্য কুয়াশার পরিস্থিতিতে তারাই এভাবে সব কিছু ভুল...

জপ সর্বশ্রেষ্ঠ

Image
🌻 জপ সর্বশ্রেষ্ঠ 🌻 🚩 শ্রীল সার্বভৌম ভট্টাচার্য শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে জিজ্ঞাসা করলেন, ভগবদ্ভক্তি সাধনের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা কি? শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তখন বললেন যে, ভগবানের নাম সংকীর্তন হচ্ছে ভগবদ্ভক্তি সাধনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রন্থা। ভক্তি সাধন শ্রেষ্ঠ শুনিতে হৈল মন। প্রভু উপদেশ কৈল নাম সংকীর্তন।। 🚩 শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীসনাতন গোস্বামীকে এ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করে বললেন- ভজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নববিধা ভক্তি। কৃষ্ণপ্রেম কৃষ্ণ দিতে ধরে মহাশক্তি।। তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নাম সংকীর্তন। নিরপরাধে নাম লৈলে পায় প্রেম ধন।। 🚩 শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর বলেছেন, " যত প্রকার ভজন আছে সর্বাপেক্ষা নামাশ্রয়ভজনই বলবান। নাম করিতে করিতে নববিধা ভজনই হইয়া থাকে।

ফুল থেকে শিক্ষা

Image
♥ফুল থেকে শিক্ষা ♥ শুধুমাত্র এক রঙের ফুল দিয়ে কখনো সুন্দর একটি মালা তৈরি করা সম্ভব নয়।গাঁদা ফুল যদি বলে গোলাপে কাটা আছে তাই মালায় গাঁথা যাবে না।অথবা চামেলি বলে জুঁই থাকলে আমি থাকবোনা তাহলে একটি মালা কখনোই সুন্দর হবেনা।একটি মালা সুন্দর করে তৈরি করতে হলে সকল ফুলকে গুরুত্ব দিতে হবে।হতে পারে কোন ফুলের সুবাস নেই অথবা কোন ফুল ছোট বা বড়।কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না বরং নিন্মমানের ফুলগুলি সৌন্দর্যের অধিকারী হয়ে উঠে। তেমনি ভক্তিজীবনে চলতে গিয়ে আমরা নানান রকমের,নানান মনোভােবের ভক্তদের সাথে পরিচিত হই।কিন্তু অনেক সময় আমরা মন্তব্য করি এই ভক্ত এইরকম, উনি ঐ রকম, উনাদের সাথে থাকা যাবে না, উনার এই সমস্যা, তাহলে আমাদের কৃষ্ণভাবনাময় জীবন কখনোই সুন্দর হবে না।হতে পারে তিনি সেবায় তেমন ভালো নয়, কিন্তু ভাল গাইতে পারে। অথবা ভাল গাইতে পারে না ভাল রান্না পারে, ভাল নাচতে পারে,বা সাজতে পারে।কৃষ্ণভাবনায় সকলেরই প্রয়োজন রয়েছে। কাউকে অবহেলা করে বাদ দেয়া যাবেনা।যে যেইভাবে দক্ষ তাকে সেইভাবে যুক্ত করা উচিত।তাহলেই কৃষ্ণভাবনাময় জীবন সুন্দর হবে।