Posts

Showing posts from May, 2021

১৯৩৭ সালে চেলসি বনাম চার্লটনের ম্যাচের দুংখদায়ক ঘটনা

Image
ছবিটি ১৯৩৭ সালে চেলসি বনাম চার্লটনের ম্যাচের। ঘন কুয়াশার কারণে রেফারি মাঝপথে খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। সবাই ড্রেসিং রুমে ফিরে যায়। কিন্তু চেলসির গোলরক্ষক স্যাম বাট্রাম রয়ে যান গোল পাহারায়। কুয়াশা যত বাড়ছে-তার সতর্কতাও তত বেশি বাড়ছে। পেছনে মানুষের কোলাহলে তিনি শুনতে পাননি রেফারির খেলা সমাপ্তির বাঁশী। অনেকক্ষণ পর- মাঠের একজন নিরাপত্তা কর্মী এসে তাঁকে জানায় ম্যাচটি প্রায় পনের মিনিট আগেই শেষ হয়ে গেছে। স্যাম বাট্রাম বলেন- না এটা হতে পারেনা। আমি বিশ্বাস করিনা। খেলা শেষ হয়ে গেলে বন্ধুরা অবশ্যই আমাকে বলতো। আমাকে মাঠে একা রেখে ওরা চলে যেতোনা। একজন মানুষও কি ছিলোনা- যে আমার খোঁজ করবে। এরপর, সত্যি যখন বুঝলেন-আসলেই খেলা শেষ হয়ে গেছে। তখন, স্যাম গভীর এক দুঃখ পেলেন। খেলা শেষ হওয়ার জন্য না। বরং বন্ধুরা যে সত্যিই তাকে না জানিয়ে চলে গেছে সে জন্য। যাদের জন্য তিনি গোল পাহারায় দাঁড়িয়ে ছিলেন- তারা সবাই চলে গেলো। কেউ তার কথা একটিবার মনেও রাখলোনা। জীবনটাও বুঝি এমনি এক খেলার মাঠ। যেখানে সময় দিয়ে, সামর্থ্য দিয়ে যাদের ডিফেন্ড করা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়- সামান্য কুয়াশার পরিস্থিতিতে তারাই এভাবে সব কিছু ভুল...

জপ সর্বশ্রেষ্ঠ

Image
🌻 জপ সর্বশ্রেষ্ঠ 🌻 🚩 শ্রীল সার্বভৌম ভট্টাচার্য শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে জিজ্ঞাসা করলেন, ভগবদ্ভক্তি সাধনের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা কি? শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তখন বললেন যে, ভগবানের নাম সংকীর্তন হচ্ছে ভগবদ্ভক্তি সাধনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রন্থা। ভক্তি সাধন শ্রেষ্ঠ শুনিতে হৈল মন। প্রভু উপদেশ কৈল নাম সংকীর্তন।। 🚩 শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীসনাতন গোস্বামীকে এ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করে বললেন- ভজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নববিধা ভক্তি। কৃষ্ণপ্রেম কৃষ্ণ দিতে ধরে মহাশক্তি।। তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নাম সংকীর্তন। নিরপরাধে নাম লৈলে পায় প্রেম ধন।। 🚩 শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর বলেছেন, " যত প্রকার ভজন আছে সর্বাপেক্ষা নামাশ্রয়ভজনই বলবান। নাম করিতে করিতে নববিধা ভজনই হইয়া থাকে।

ফুল থেকে শিক্ষা

Image
♥ফুল থেকে শিক্ষা ♥ শুধুমাত্র এক রঙের ফুল দিয়ে কখনো সুন্দর একটি মালা তৈরি করা সম্ভব নয়।গাঁদা ফুল যদি বলে গোলাপে কাটা আছে তাই মালায় গাঁথা যাবে না।অথবা চামেলি বলে জুঁই থাকলে আমি থাকবোনা তাহলে একটি মালা কখনোই সুন্দর হবেনা।একটি মালা সুন্দর করে তৈরি করতে হলে সকল ফুলকে গুরুত্ব দিতে হবে।হতে পারে কোন ফুলের সুবাস নেই অথবা কোন ফুল ছোট বা বড়।কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না বরং নিন্মমানের ফুলগুলি সৌন্দর্যের অধিকারী হয়ে উঠে। তেমনি ভক্তিজীবনে চলতে গিয়ে আমরা নানান রকমের,নানান মনোভােবের ভক্তদের সাথে পরিচিত হই।কিন্তু অনেক সময় আমরা মন্তব্য করি এই ভক্ত এইরকম, উনি ঐ রকম, উনাদের সাথে থাকা যাবে না, উনার এই সমস্যা, তাহলে আমাদের কৃষ্ণভাবনাময় জীবন কখনোই সুন্দর হবে না।হতে পারে তিনি সেবায় তেমন ভালো নয়, কিন্তু ভাল গাইতে পারে। অথবা ভাল গাইতে পারে না ভাল রান্না পারে, ভাল নাচতে পারে,বা সাজতে পারে।কৃষ্ণভাবনায় সকলেরই প্রয়োজন রয়েছে। কাউকে অবহেলা করে বাদ দেয়া যাবেনা।যে যেইভাবে দক্ষ তাকে সেইভাবে যুক্ত করা উচিত।তাহলেই কৃষ্ণভাবনাময় জীবন সুন্দর হবে।

একটা তুলসী পাতার ওজন কতখানি

Image
একটা তুলসী পাতার ওজন কতখানি ? একদিন নারদ মুনি পরীক্ষা করার জন্য কৌশলে সত্যভামা দেবীর কাছ থেকে পুজার দান স্বরুপ শ্রী- কৃষ্ণকে চেয়ে নিলেন।সত্যভামাদেবী এরপর কোনো উপায় না পেয়ে পতি হারানোর কষ্টে কান্না করতে লাগলেন। তার পতিব্রতে প্রসন্ন হয়ে নারদ মুনি কৃষ্ণকে ফিরিয়ে দিতে শেষমেশ রাজি হলেন। কিন্তু শর্ত ছিলো , "কৃষ্ণের সমপরিমাণ ওজনের ঐশ্বর্য তাকে দান করতে হবে।"  কোনো উপায় না পেয়ে সত্যভামাদেবী ধীরেধীরে তার সমস্ত অলংকার আনতে শুরু করলেন। এক পাল্লায় কৃষ্ণকে বসিয়ে অপর পাল্লায় স্বর্ণালংকার রাখতে শুরু করলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কোনো ভাবেই অপর পাল্লা কৃষ্ণের সমান করা যাচ্ছিল না। শেষমেশ বাধ্য হয়ে সত্যভামা তার দেহের সমস্ত অলংকার পর্যন্ত খুলে দিতে লাগলেন। হায় !! হায় !! আর বুঝি প্রিয় কৃষ্ণকে ফিরে পাওয়া হল না আমার !! এই ভেবে পতি বিরহে হু হু করে কান্না করতে লাগলেন সত্যভামা। সত্যভামা ভুলে গিয়েছিলেন যে , হাজার হাজার বছর তপস্যা করেও যাকে লাভ করা যায় না , তাকে এই নশ্বর ঐশ্বর্য দ্বারা কিভাবে লাভ করা সম্ভব। যাই হউক , শেষমেশ ভগবানের করুণায় রুক্মিণীদেবী শ্রী কৃষ্ণকে জয় করার মহাকৌ...

আসুন আমাদের পূর্বপুরুষেরা যা করেছে তা বিশ্বকে ভাগ করে নেওয়ার এবং শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে গর্ব করি

Image
1. জ্যোতির্বিদ্যার জনক: আর্যভট্ট  কাজ - আর্যভট্টিয়াম।  ২. জ্যোতিষের জনক: ওয়ারামিহির, কাজ   পঞ্চসিদ্ধন্তিকা,  শাস্ত্র  ৩. শল্যচিকিৎসার,  চরক ও সুশ্রুত, কাজ করেছেন সংহিতা।  ৪. অ্যানটমির পিতা: পতঞ্জলি, কাজ: যোগসূত্র  ৫. যোগের পিতা: পতঞ্জলি, কাজ: যোগাসূত্র  6.. অর্থনীতির জনক: চাণক্য, রচনা: অর্থরাষ্ট্র  7.. পরমাণু তত্ত্বের পিতা: ঋষি কানদা, কাজ: কানদ সূত্র  ৮. স্থাপত্যের পিতা: বিশ্বকর্মা।   9. অ্যারো ডায়নামিক্সের জনক: মায়াসুর, কাজ: বাস্তু দর্পণ ১০. মেডিসিনের জনক: ধনবন্ত্রি, প্রথমে আয়ুর্বেদ প্রবর্তিত  ১১. ব্যাকরণের পিতা: পানিনি, রচনা: ব্যাকরণ দীপিকা  ১২। নাট্যশাস্ত্রের পিতা: ভারতমনি, কাজ: নাট্যশাস্ত্র।   ১৩. কাব্যর জনক (সাহিত্য) কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন (বেদব্যাস) কাজ করেন,  মহাভারত, অষ্টাদশ পুরাণ।   ১৪. নাট্য রচনার জনক: কালিদাস, রচনা: মেঘধূত, রঘুভশম, কুমার সংভাব প্রভৃতি  ১৫. গণিতের পিতা: ভাস্কর দ্বিতীয়, রচনা: লীলাবতী।   16. যুদ্ধ ও অস্ত্রের জনক: পরশুরাম, রচনা: কালারিপায়াতু, সুলবা সূত্র।   17. গল্প লেখার জনক: বিষ্ণু শর্মা, রচনা: পঞ্চতন্ত্র। 18. রাজনীতির জনক: চাণক্য, রচনা: আর্থরাষ্ট্র, নীতিশাস্ত...

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৬৪ টি গুন

Image
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৬৪ টি গুন। ❤️ ১) তাঁর সমস্ত শরীর অপূর্ব মাধুর্য মণ্ডিত ২)সমস্ত শুভ লক্ষন যুক্ত ৩)অত্যন্ত মনোরম ৪)জ্যোতির্ময় ৫)বলবান ৬) নিত্য নব-যৌবনসম্পন্ন ৭) সমস্ত-ভাষায় পারদর্শী ৮)সত্যবাদি ৯) প্রিয়ভাষী ১০) বাকপটুঁ ১১) পরম পণ্ডিত ১২) পরম বুদ্ধিমান ১৩) অপূর্ব প্রতিভাশালী ১৪) বিদগ্ধ শিল্পকলায় পারদর্শী ১৫)অত্যন্ত চতুর ১৬) পরম দক্ষ ১৭) কৃতজ্ঞ ১৮) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ১৯) স্থান ,কাল ও পাত্র সম্পর্কে বিচার করতে অত্যন্ত সুদক্ষ ২০)বৈদিক তত্ত্বজ্ঞান এর পরিপ্রেক্ষিতে দর্শন করতে আর উপদেশ দিতে অত্যন্ত পারদর্শী ২১)পবিত্র ২২ ) সংযত ২৩)অবিচলিত ২৪) জিতেন্দ্রিয় ২৫)ক্ষমাশীল ২৬) গম্ভীর ২৭)আত্ম-তৃপ্ত ২৮)সমদৃষ্টি সম্পন্ন ২৯) উদার ৩০) ধার্মিক ৩১)বীর ৩২) কৃপাময় ৩৩ )শ্রদ্ধাবান ৩৪) বিনীত ৩৫) বদান্য ৩৬)লজ্জাশীল ৩৭) শরণাগত জীব-এর রক্ষক ৩৮)সুখী ৩৯) ভক্তদের হিতৈষী ৪০) প্রেমের বশীভূত ৪১) সর্বমঙ্গলময় ৪২) সর্বশক্তিমান ৪৩) পরম যশস্বী ৪৪) ভক্তবৎসল ৪৫) সমস্ত স্ত্রীলোকদের কাছে অতান্ত আকর্ষনীয় ৪৬) সকলের আরাধ্য ৪৭) জনপ্রিয় ৪৮) সমস্ত ঐশ্বর্য-এর অধিকারী ৪৯) সকলের মাননীয় ৫০) পরম নিয়ন্তা উল্লেখিত ৫০ টি গুন ছাড়া ভগবান শ্...

ইহকাল পরকাল দু'টোই শেষ

Image
একফোঁটা মধু মাটিতে পড়ে আছে! পাশ দিয়ে ছোট্র একটি পিপীলিকা যাচ্ছিল! মধুর ঘ্রাণ নাকে ঢুকতেই থমকে দাঁড়াল! ভাবলো একটু মধু খেয়ে নেই! তারপর না হয় সামনে যাবো! এক চুমুক খেলো! বাহ্! খুব মজা তো! আর একটু খেয়ে নেই! আরেক চুমুক খেলো! তারপর সামনে চলতে লাগলো! হাটতে হাটতে ঠোঁটে লেগে থাকা মধু চেটে চেটে খাচ্ছিল! ভাবলো,এত মজার মধু আরেকটু খেয়ে নিলে কি হয়? আবার পিছনে ফিরলো! পূর্বে মধুর একপাশ থেকে খেয়েছিল! এবার চিন্তা করলো ভিতরে মনে হয় আরও মজা! এবার আস্তে আস্তে বেয়ে বেয়ে মধু ফোঁটার উপরে উঠে গেল! বসে বসে আরামছে মধু খাচ্ছে! খেতে খেতে এক পর্যায়ে পেট ফুলে গেল! ঐ দিকে আস্তে আস্তে পা দুটো মধুর ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে! তখনই হঠ্যাৎ টনক নড়লো তার! কিন্তু কতক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে! মধু থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চলছে! কিন্তু নাহ্! মধুতে তার সমস্ত শরীর মাখামাখি অবস্থা! অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে আর উদ্ধার করতে সক্ষম হলো না! নাকে মুখে মধু ঢুকে দম বন্ধ হয়ে যেতে লাগল! অবশেষে.. পিপীলিকাটি মধুর ভিতরে আটকে পড়েই মৃত্যু বরণ করল!! এই বিশাল বড় দুনিয়াটাও এক ফোটা মধুর মত! যে এই মধুর পাশে বসে অল্পতে ত...

পঞ্চ পান্ডব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রশ্ন করেন যে,কলিযুগ কেমন হবে?

Image
পঞ্চ পান্ডব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রশ্ন করেন যে,কলিযুগ কেমন হবে" ? ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরামর্শ দেন পাঁচ ভাইকে এক জঙ্গলের ভেতর পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন পথ দিয়ে হেঁটে আবার তাঁর কাছে ফেরত আসতে । পাঁচ ভাই জঙ্গলের ভেতরে কি দেখলেন.? ১) যুধিষ্ঠির ওই পথে হেঁটে যাওয়ার সময় একটা অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করলেন -একটা হাতি কিন্তু তার দুটি শুঁড় । এই অদ্ভুত লক্ষ্যের কথা জানালেন শ্রীকৃষ্ণের কাছে । উত্তরে: শ্রীকৃষ্ণ বলেন, "কলি,যুগের মানুষ হবে ঠিক এই রকম । তারা মুখে বলবে এক, কিন্তু তাদের কাজ গুলো হবে সম্পূর্ণ আলাদা ।" ২) ভীম দেখতে পেলেন,একটা গরু তার বাছুর কে আদর করছে চেটে চেটে,কিন্তু এত বেশি চাটছে যে বাছুরটির গায়ের ছাল উঠে গিয়ে রক্তপাত শুরু হয়েছে । ভীম এই কথাটা শ্রীকৃষ্ণের কাছে জানালেন । উত্তরেঃ শ্রীকৃষ্ণ বলেন, "কলি যুগের মাতা,পিতা হবে ঠিক এইরকম । মাতা,পিতার অন্ধ স্নেহ ও অতিরিক্ত ভালোবাসাই, তাদের সন্তানদের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠবে। যেমন এতে সন্তানদের বিচার বুদ্ধিহীনতা ও পরনির্ভরশীল করে তুলবে। যা আগামীতে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন যাপনে তাদের বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে।" ৩) অর্জুন দেখতে পেলেন, একটি নদীতে একট...
Image
রুক্মিণী দেবীর জানা/অজানা কথা 🌿🌾রুক্মিণীদেবীর জানা/অজানা কথা🌿🌾 ১)মাতা রুক্মিণী স্বয়ং দেবী মহালক্ষ্মীর অবতার ছিলেন। ২)তিনি রাজা ভীষ্মাকার রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন বিদর্ভের প্রিয় রাজকন্যা। ৩)শৈশব থেকেই শ্রীকৃষ্ণের প্রেমে পড়েন তিনি, যখন তাঁর সম্পর্কে বহু গল্প শুনেছিলেন। ৪)তাঁর পাঁচ ভাই ছিলেন- রুক্মী, রুক্মকেশ, রুক্মরথ, রুক্মলাল এবং রুক্মবাহু। ৫)রুক্মিণীর সাথে চেদি রাজ্যের রাজপুত্র শিশুপালের বিবাহ ঠিক হয়েছিল। তিনি শ্রীকৃষ্ণকে একটি চিঠি লিখেছিলেন যেখানে তিনি তাঁর প্রতি তার ভালবাসার কথা স্বীকার করেছিলেন এবং তাকে অপহরণ এবং বিবাহের অনুরোধ করেছিলেন। ভগবান কৃষ্ণ, যিনি নিজেই তাঁর প্রেমে ছিলেন, তাঁর চিঠির ছোঁয়া পেয়ে তাঁকে অপহরণ করেছিলেন। ৬)রুক্মি তাদের থামানোর চেষ্টা করেছিল। মাতা রুক্মিনীর সাথে যেভাবে আচরণ করেছিলেন এবং তাঁকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাতে শ্রীকৃষ্ণ রুক্মির প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। তবে দয়া ও করুণার সমুদ্র হওয়ায় তিনি তাকে অনুরোধ করেছিলেন রুক্মীকে হত্যা না করার জন্য। সুতরাং, শ্রীকৃষ্ণ পরিবর্তে তার মাথা কামিয়ে দিলো। ৭)তিনি ছিলেন তাঁর প্রধান স্ত্রী এব...

শকুন ও শৃগালের দর্শন

Image
🚩 #শকুন_ও_শৃগালের_দর্শন 🚩 🌻 একদিন একটি গ্রামে এক বালক মারা গেল । স্বভাবতই তাকে ঘিরে আত্মীয়-স্বজনেরা ভীষণ কান্না করতে লাগল । তারপর তারা যখন বালকের মৃতদেহটি সৎকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই এক শৃগাল এসে মধুর স্বরে বালকের প্রতি উপস্থিত সবার ভালবাসার প্রসংশা করতে লাগল । এরপর সে বালকের বিস্ময়কর সব গুণাবলীর কথা শোনাতে লাগল এবং শেষে সে মৃতদেহ পোড়ানোর পূর্বে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বালকের মধুর স্মৃতির দ্বারা সবাইকে সিক্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ করল । আর বলল আপনারা কালকে এই মৃতদেহ পুড়াবেন এখন সবাই বাসায় চলে যান । 🌻 ইতিমধ্যে, উপর থেকে সবকিছু দেখে একটি শকুন আকষ্মিকভাবে সেখানে উড়ে নামল । নেমেই শৃগালের কথাগুলোকে সে দার্শনিকভাবে খন্ডন করতে লাগল । শকুন ব্যাখ্যা করতে লাগল যে, যাকে আসলে ভালবাসা যায়, সেই আত্মা দেহের ভিতরে থাকে এবং ইতিমধ্যে সে আত্মা দেহ থেকে চলে গেছে । তাই এই মৃতদেহের জন্য শোক করা শুধু ভাবপ্রবণতা ও মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয় । এজন্যে শকুনের পরামর্শ হচ্ছে, দেহ ও আত্মাকে পৃথক জ্ঞান করে সবার উচিত আর শোক না করে এ স্থান ত্যাগ করে চলে যাওয়া । এভাবে শকুনটি শৃগালের যুক্তি খন্ডন করল আর  আত্মীয়-স্বজনদের চলে...

ভক্ত প্রহ্লাদের পূর্ব জীবন ও কর্মফল

Image
ভক্ত প্রহ্লাদ এর জন্য যখন ভগবান নৃসিংহ রূপে আবির্ভূত হন এবং হিরণ্যকশিপুকে সংহার করেন, কিছু সময় পরে নৃসিংহ ভগবানকে প্রহ্লাদ নিজের পূর্ববর্তী জীবনের কর্মফল সম্পর্কে জানতে চান। উত্তরে নৃসিংহ দেব জানান, প্রহ্লাদ আগের জন্মে এক সাধুর পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন এবং প্রহ্লাদ এর আরও চারজন ভাই ছিল। অন্যান্য চার ভাই ধর্মপরায়ণ হলেও প্রহ্লাদ একটি দুরাচারী ব্যক্তি ছিল।এর জন্য প্রহ্লাদ এর পিতার অনেক দুর্নাম ঘটে। অবশেষে একদিন আর সহ্য করতে না পেরে প্রহ্লাদ কে তার পিতা ঘর থেকে বের করে দেয়। প্রহ্লাদ অসৎ সঙ্গে থেকে অসৎ কর্ম করে জীবন কাটাতে থাকে। একদিন প্রহ্লাদ এর স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হয় এবং রাগ করে প্রহ্লাদ বনে চলে যায়। বনে একটি পুরনো ভাঙা স্থপতির মধ্যে আশ্রয় নেয় এবং সেখানে রাত্রি বাস করে। মনের দুঃখে প্রহ্লাদ ভাবতে শুরু করে, জীবনে কি পরিণতি সে লাভ করছে, অন্য চারভাই ধার্মিক ও সম্মানীয় জীবন যাপন করছে কিন্তু সে কি তার জীবন টা নষ্ট করছে না? এইসব ভাবতে ভাবতে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতে থাকে এবং অনাহারে থেকে সারারাত ভগবানের চরণে তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে থাকে। নৃসিংহ দেব প্রহ্লাদ কে বললেন, "আ...

নৃসিংহদেবের অষ্টোত্তরশত নাম, স্তব ও প্রার্থনা

Image
#শ্রীনৃসিংহেদবের_অষ্টোত্তরশত_নাম_স্তব_ও_প্রার্থনা— #শ্রীনৃসিংহদেবের_অষ্টোত্তরশত_নাম— ১) ওঁ নরসিংহায় নমঃ ২) ওঁ মহাসিংহায় নমঃ ৩) ওঁ দিব্যসিংহায় নমঃ ৪) ওঁ মহাবলায় নমঃ ৫) ওঁ উগ্রসিংহ্যায় নমঃ ৬) ওঁ মহাদেবায় নমঃ ৭) ওঁ স্তম্ভজায় নমঃ ৮) ওঁ উগ্রলোচনায় নমঃ ৯) ওঁ রৌদ্রায় নমঃ ১০) ওঁ সর্বাদ্ভুতায় নমঃ ১১) ওঁ শ্রীমতে নমঃ ১২) ওঁ যোগানন্দায় নমঃ ১৩) ওঁ ত্রিবিক্রমায় নমঃ ১৪) ওঁ হরয়ে নমঃ ১৫) ওঁ কোলাহলায় নমঃ ১৬) ওঁ চক্রিনে নমঃ ১৭) ওঁ বিজয়ায় নমঃ ১৮) ওঁ জয়বর্ধনায় নমঃ ১৯) ওঁ মহানন্দায় নমঃ ২০) ওঁ পঞ্চকাননায় নমঃ ২১) ওঁ পরব্রহ্মণে নমঃ ২২) ওঁ অঘোরায় নমঃ ২৩) ওঁ ঘোরবিক্রমায় নমঃ ২৪) ওঁ জ্বলন্মুখায় নমঃ ২৫) ওঁ মহোজ্বলায় নমঃ ২৬) ওঁ জ্বলমালিনে নমঃ ২৭) ওঁ মহাপ্রভবে নমঃ ২৮) ওঁ নীতলাক্ষায় নমঃ ২৯) ওঁ সহস্রাক্ষায় নমঃ ৩০) ওঁ দুর্নিরীক্ষায় নমঃ ৩১) ওঁ প্রতাপনায় নমঃ ৩২) ওঁ মহাদংষ্ট্রায়ুধায় নমঃ ৩৩) ওঁ প্রজ্ঞায় নমঃ ৩৪) ওঁ চন্ডকোপিনে নমঃ ৩৫) ওঁ সদাশিবায় নমঃ ৩৬) ওঁ হিরণ্যকশিপুধ্বংসিনে নমঃ ৩৭) ওঁ দৈত্যদানবভঞ্জনায় নমঃ ৩৮) ওঁ গুণভদ্রায় নমঃ ৩৯) ওঁ মহাভদ্রায় নমঃ ৪০) ওঁ বলভদ্রায় নমঃ ৪১) ওঁ করালায় নমঃ ৪২) ওঁ বিকরালায় নমঃ ৪৩) ওঁ বিকর্তে নমঃ ...

একাদশী তত্ত্ব

Image
#একাদশী_তত্ত্ব পদ্মপূরাণে একাদশী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। একসময় জৈমিনি ঋষি তাঁর গুরুদেব মহর্ষি ব্যাসদেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে গুরুদেব! একাদশী কি? একাদশীতে কেন উপবাস করতে হয়? একাদশী ব্রত করলে কি লাভ ? একাদশী ব্রত না করলে কি ক্ষতি? এ সব বিষয়ে আপনি দয়া করে বলুন। মহর্ষি ব্যাসদেব তখন বলতে লাগলেন-সৃষ্টির প্রারম্ভে পরমেশ্বর ভগবান এই জড় সংসারে স্হাবর জঙ্গম সৃষ্টি ...করলেন। মর্ত্যলোকবাসী মানূষদের শাসনের জন্য একটি পাপপুরুষ নির্মাণ করলেনা। সেই পাপপুরুষের অঙ্গণ্ডলি বিভিন্ন পাপ দিয়ে নির্মিত হল। পাপপুরুষের মাথাটি ব্রহ্মহত্যা পাপ দিয়ে, চক্ষুদুটি মদ্যপান, মুখ স্বর্ণ অপহরণ, দুই কর্ণ-ণ্ডরুপত্নী গমন, দুই নাসিকা-স্ত্রীহত্যা, দুই বাছ-গোহত্যা পাপ, গ্রীবা-ধন অপহরণ, গলদেশ-ভ্রুণহত্যা, বক্ষ-পরস্ত্রী-গমন, উদর-আত্মীয়স্বজন বধ, নাভি-;শরণাগত বধ, কোমর-আত্মশ্লাঘা, দুই ঊরু-ণ্ডরুনিন্দা, শিশ্ন-কন্যা বিক্রি, মলদ্বার-ণ্ডপ্তকথা প্রকাশ পাপ, দুই পা-পিতৃহত্যা, শরীরের রোম-সমস্ত উপপাতক। এভাবে বিভিন্ন সমস্ত পাপ দ্বারা ভয়ঙ্কর পাপপুরুষ নির্মিত হল। পাপপুরুষের ভয়ঙ্কর রূপ দর্শন করে ভগবান শ্রীবিষ্ণু মর্ত্যের মানব জাতির দুক্ষ মোচন ...

মূর্খকে সদুপদেশ দিলে কি হয়

Image
মূর্খকে যদি সদুউপদেশ দেওয়া হয়, তাহলে সে তা গ্রহন করতে পারে না। উল্টে সে ক্রুুদ্ধ হয়। এই ক্রুধকে সাপের বিষের সঙ্গে তুলনা করা হয়,কারণ সাপকে যখন দুধ কলা খাওয়ানো হয় তখন তার বিষ বৃদ্ধি পায়। সাপকে ভাল ভাল খাদ্য খেতে দিলে দয়ালু ও বিনম্র হওয়ার পরিবর্তে সাপের বিষ বৃদ্ধি পায়।তেমনি মূর্খকে যখন উপদেশ দেওয়া হয়, তখন সে নিজেকে সংশোধন করার পরিবর্তে ক্রুদ্ধ হয়।( শ্রীমদ্ভাগবতম ৪/২৬/২২ শ্রীল প্রভুপাদের তাৎপর্য)

অষ্টসিদ্ধি

Image
#প্রশ্নঃ #অষ্টসিদ্ধি কি ? #উত্তরঃ ব্রহ্মলােক, ধ্রুবলােক ইত্যাদি উচ্চতর গ্রহের অধিবাসীরা সকলে অষ্টসিদ্ধি লাভ করেছেন। তাঁরা ইচ্ছা অনুসারে অণুর মতাে ক্ষুদ্র আকার ধারণ করতে পারেন—এরকম সিদ্ধিকে বলে #অণিমা। ইচ্ছামতাে হালকা জলের উপর হেঁটে যেতে বা শূন্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন—এরকম সিদ্ধিকে বলে #লঘিমা। যে কোনও স্থান থেকে যা ইচ্ছা তাই প্রাপ্ত হতে পারেন—এরকম সিদ্ধিকে বলে #প্রাপ্তি। অত্যন্ত ভারী হতে পারেন, এই সিদ্ধিকে বলে #গরিমা। কোনও স্থানে কিছু অদ্ভুত জিনিষ সৃষ্টি করতে পারেন বা ইচ্ছানুসারে কোন জিনিস ধ্বংস করতে পারেন। এরকম সিদ্ধিকে বলে #ঈশিতা। জড় উপাদান গুলােকে কেবল ইচ্ছা অনুসারে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। একে বলে বশিতা। কোনও বাসনা চরিতার্থ করতে এবং কখনও নিরাশ না হওয়ার যে সিদ্ধি তাকে বলে প্রাকাম্য। ইচ্ছামতাে বা খামখেয়ালীভাবে যে কোনও জড়রূপ ধারণ করতে পারেন। এই সিদ্ধিকে বলে কামাবসায়িতা। উচ্চতর গ্রহের অধিবাসীরা স্বাভাবিকভাবেই এ সমস্ত সিদ্ধির অধিকারী। এজন্য তাদের কোনও অনুশীলন বা কোনরকম অলৌকিক পদ্ধতি শিখতে হয় না। তারা ইচ্ছা করলে এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে কোনরকম আকাশযান ছাড়াই নিমেষের মধ্যেও ভ্রমণ করতে পা...

চক্ চক্ করলে সোনা হয় না

Image
#চক্_চক্_করলে_সােনা_হয়_না। #মূলভাবঃ বাইরের চাকচিক্য ও সাজসজ্জা দেখে কোনাে কিছুকে গুণসম্পন্ন বা মূল্যবান মনে করা উচিত নয়। #সম্প্রসারিত_ভাবঃ বিশ্ব সংসারে আপাত সুন্দর অন্তঃসারশূন্য বস্তুর অভাব নেই। সর্বত্রই নকল অসার আড়ম্বরপূর্ণ বস্তু ছড়িয়ে আছে। যা সহজে চেনা কঠিন। যেমন মাকাল ফল দেখতে সুন্দর হলেও ভেতরে শুধুই ছাই। তাই কুহেলিকায় মুগ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং মানব জীবনকে তুচ্ছ করে দেয়। স্বর্ণ মূল্যবান ধাতু এটা দেখতে খুবই উজ্জ্বল। তামা এবং পিতলকে ভালােভাবে ঘষামাজা করলে সােনার মতো উজ্জ্বল দেখায়। তাই বলে সেগুলাে সােনার মতো দামি নয়। এ রকম আমাদের জগৎ সংসারে অনেককে বাইরের রূপ দেখে প্রকৃত রূপ মনে করা ঠিক নয়। কথায় আছে কোনাে ব্যক্তির মুখে ধর্মের বুলি উচ্চারণ করলেই সে ধার্মিক হবে এমন ভাবা ঠিক নয়। অনেক সময় স্বার্থ সাধন ও গুণবান ব্যক্তির মতাে অভিনয় করে। সুতরাং মিথ্যা মূল্যহীন। চক্ চকে বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে রূপহীন প্রতিভাবান ব্যক্তির অন্বেষণ করাই জ্ঞানীর কাজ। চাকচিক্য মানুষের আসল পরিচয় নয়। কেননা, চক্ চক্ করলেই তা দেখে সােনা ভাবা বুদ্ধিমানের বৈশিষ্ট্য নয়। এমন মনে করল...

কলিযুগ কেমন হবে

Image
#একদিন পঞ্চপাণ্ডব দ্বাপর যুগের শেষ প্রান্তে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রশ্ন করেন যে "কলিযুগ কেমন হবে" ? #ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরামর্শ দেন পাঁচ ভাইকে এক জঙ্গলের ভেতর পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন পথ দিয়ে হেঁটে আবার তাঁর কাছে ফেরত আসতে । পাঁচ ভাই জঙ্গলের ভেতরে কি দেখলেন.....??? ১) যুধিষ্ঠির ওই পথে হেঁটে যাওয়ার সময় একটা অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করলেন -একটা হাতি কিন্তু তার দুটি শুঁড় । এই অদ্ভুত লক্ষ্যের কথা জানালেন শ্রীকৃষ্ণের কাছে । # উত্তরে: শ্রীকৃষ্ণ বলেন, "কলি,যুগের মানুষ হবে ঠিক এই রকম । তারা মুখে বলবে এক, কিন্তু তাদের কাজ গুলো হবে সম্পূর্ণ আলাদা ।" ২) ভীম দেখতে পেলেন,একটা গরু তার বাছুর কে আদর করছে চেটে চেটে,কিন্তু এত বেশি চাটছে যে বাছুরটির গায়ের ছাল উঠে গিয়ে রক্তপাত শুরু হয়েছে । ভীম এই কথাটা শ্রীকৃষ্ণের কাছে জানালেন । # উত্তরেঃ শ্রীকৃষ্ণ বলেন, "কলি যুগের মাতা,পিতা হবে ঠিক এইরকম । মাতা,পিতার অন্ধ স্নেহ ও অতিরিক্ত ভালোবাসাই, তাদের সন্তানদের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠবে। যেমন এতে সন্তানদের বিচার বুদ্ধিহীনতা ও পরনির্ভরশীল করে তুলবে। যা আগামীতে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন যাপনে তাদের বাঁধা হয়ে দাঁড়...

পাপের বাপ কে?

Image
#পাপের বাপ কে ? ভুবেনশ্বর শহরে একজন নামকরা পণ্ডিত ছিলেন । তিনি কাশী থেকে পড়াশোনা শেষে বিয়ে করে সংসার পাতেন । দিনকাল ভালোই কাটছিল । একদিন তাঁর স্ত্রী তাকে প্রশ্ন করল — “ পণ্ডিতমশাই ! বলুন তো পাপের বাপ কে ? ” পণ্ডিত পুঁথিপত্র খুলে বসলেন , কিন্তু পাতি পাতি করে খুজেও কোথাও পেলেন না , পাপের বাপ কে ? তার খুব লজ্জা হল । স্ত্রী জিজ্ঞাসা করছে পাপের বাপ কে ? আর এত বড় পণ্ডিত হয়ে , এত লেখাপড়া করে , আমি বলতে পারলামনা , পাপের বাপ কে ? তিনি আবার কাশী যেতেমনস্থ করলেন । ভাবলেন কাশী গিয়ে সব আর একবার ভালোভাবে জেনে আসতে হবে । কাশী যাবার পথে এক বেশ্যার সঙ্গে পণ্ডিতের দেখা হয়ে গেল । বেশ্যাটি শুনেছিল পণ্ডিত কাশী থেকে বিস্তর পড়াশুনা করে এসেছেন । সে পণ্ডিতকে জিজ্ঞাসা করল — “ পণ্ডিতজী কোথায় যাচ্ছেন ? ? ” পণ্ডিত বলল — “ আমি কাশী যাচ্ছি । ’ বেশ্যাটি বলল — “ কেন , কাশী যাচ্ছেন কেন ? আপনি তো কাশী থেকে পড়াশোনা করেই এসেছেন ? ” পন্ডিত বলল — “ কী করব বল ? বাড়িতে আমার স্ত্রী আমাকে প্রশ্ন করেছে ,পাপের বাপ কে ? আমি তার জবাব দিতে পারিনি । তাই আবার পড়াশোনা করে দেখব পাপের বাপ কে ? ’ বেশ্যাটি বলল — “ আপনি ওখানে কে...

যারা আত্মহত্যা করে দেহ ত‍্যাগ করেন, তাদের জন্য কি করলে তাদের আত্মার সদগতি হবে

Image
📜 যারা আত্মহত্যা করে দেহ ত‍্যাগ করেন,  তাদের জন্য কি করলে তাদের আত্মার সদগতি হবে❓ 🥀 পদ্মপুরাণের উত্তরখন্ডে ২টি বিধান আছে- ▪️১) কাশীধামে গিয়ে পিন্ডদান ▪️২) যে স্থানে মৃত্যু ঘটেছে সে স্থানে শ্রীকৃষ্ণের পূজা করে শ্রীমদ্ভগবদগীতার ৩য় অধ্যায় পাঠ করে সে পুণ্য মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হরি বোল🙏

ভগবানের নামকরণ

Image
👏#ভগবানের_নামকরণঃ ──────────────── ছয়মাস বয়সে নিমাইয়ের অন্নপ্রাশনের আয়োজন করা হয়। শিশু নিমাই প্রথমবারের মতো মিষ্টান্ন গ্রহণ করবে। শিশুর জন্মের দু-এক মাস পরেই নামকরণ অনুষ্ঠান করা হয়। কিন্তু নিমাইয়ের পিতা-মাতা নামকরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন না করায়, নামকরণ ও অন্নপ্রাশন একই দিনে করতে সিদ্ধান্ত নিলেন। পুত্রের অন্নপ্রাশন উৎসবে যোগদান করে নামের শুভ আদ্যক্ষর ঠিক করার জন্য তাঁরা নীলাম্বর চক্রবর্তীকে নিমন্ত্রণ করলেন। তিনি এসে বললেন, “বিশ্বম্ভর নামটিই উত্তম। কারণ এই শিশু সমগ্র বিশ্বের ভার গ্রহণ করবে।” কিন্তু প্রতিবেশী মহিলার বললেন, “নিমগাছের নিচে ওর জন্ম হয়েছে। তাই আমরা ওকে নিমাই বলে ডাকব।” পুরুষেরা চাইলেন, শিশুপুত্রের নাম হোক বিশ্বম্বর আর মহিলার চাইলেন নিমাই। তারপর তাঁরা সকলে মিলে নীলাম্বর চক্রবর্তীকে তা সমাধান করার জন্য অনুরোধ করলেন। তাই নীলাম্বর চক্রবর্তী বললেন, “ঠিক আছে, ওর ডাকনাম হবে নিমাই আর পারমার্থিক কর্মে ওর নাম হবে বিশ্বম্বর।” এভাবে তিনি উভয়কে সন্তুষ্ট করলেন। সাধারণত এই অনুষ্ঠানে গ্রন্থ ও টাকা দুই পাশে রেখে দেখা হয় যে শিশুটি আসলে এই দুটির কোনটির দিকে আকৃষ্ট। কিন্তু নীলাম্বর চক্রবর্তী বিভিন্ন...

কাঁক ও ঈগল

Image
✅কাঁক হচ্ছে একমাত্র পাখি, যে ঈগলের ঘাড়ের উপর বসে, ঠোকর মেরে, তাকে বিরক্ত করতে পারে। যে সাহস অন্য কোন পাখির নেই। মজার ব্যাপার হচ্ছে ঈগল কিন্তু , কাঁকের সাথে লড়াই করে, বা তাকে মেরে ফেলতে যেয়ে, তার সময় ও শক্তির অপচয় করে না। ঈগল যেটা করে, সেটা হচ্ছে, সে দ্রুত গতিতে উপরে উঠতে থাকে। আতি উচ্চতায় অক্সিজেন স্বল্পতার কারনে, এবং ঈগলের প্রচন্ড গতির কারনে, কাঁক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং টিকতে না পেরে, ঈগলের ঘাড় থেকে, দ্রুত খসে পড়ে যায়। ঠিক তেমনি ভাবে, আপনার জীবন চলার পথে, কাছের মানুষ, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবরূপি অনেক কাঁক, আপনার পিছনে ঠোকর মেরে, আপনার আধ্যাত্মিক জীবনকে ব্যাহত করবে। এদের সাথে লড়তে যেয়ে, সময় এবং শ্রম অপচয় করার কোন দরকার নেই। আপনার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানর জন্য, সাধনা ও কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দিন। আপনার গতির সাথে তাল মেলাতে না পেরে, এই সব কাঁকে মত সবাই , দুর্বল হয়ে এমনিতেই ঝড়ে পড়ে যাবে।🧐

সপ্ত মাতা

Image
♥️ সপ্ত মাতা ♥️ আত্ম-মাতা গুরু পত্নী ব্রাহ্মণী রাজা-পত্নী ধেনুর ধাত্রী তথা পৃথিবী সপ্তিতা মাতারহ স্মার্থ --- চানক্য নীতি শাস্ত্র ১। আত্ম মাতা – নিজ মা ২। গুরু পত্নী – গুরুদেবের পত্নী ৩। ব্রাহ্মণী – ব্রাহ্মণের পত্নী ৪। রাজ পত্নী – রাজার পত্নী বা রানী ৫। ধেণু – গাভী মাতা ৬। ধাত্রী – ধাত্রীমাতা বা নার্স ৭। তথা পৃথিবী – পৃথিবী মাতা আমাদের সপ্তমাতা রয়েছে তো চলুন এই মাতৃদিবসে সপ্তমাতাকে সম্মান ও সেবা প্রদানের মাধ্যমে পালন করি। আমরা কিভাবে এই সাতজন মাতা কে ভালোবাসতে এবং সেবা প্রদান করতে পারি। তা খুব সরল, আমরা যদি সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা কৃষ্ণ কে ভালবাসি তাহলে এই সপ্তমাতাকে আমরা ভালবাসতে পারি। মা হলো শুদ্ধ ভালোবাসা মূর্তি প্রকাশ তাই আমরা যদি তার ভালোবাসা প্রতিদান করতে চাই তাহলে কৃষ্ণকে ভক্তিযোগের মাধ্যমে ভালোবাসার অভ্যাস করতে হবে। প্রকৃত ভালোবাসার সূত্র অনেক সরল, সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসা তাহলে তার সৃষ্টিকে ভালোবাসা যায়। শুভ মাতৃদিবস।

অক্ষয় তৃতীয়া কী এবং কেন?

Image
¤ অক্ষয় তৃতীয়া কী এবং কেন? বাংলাদেশ সময়ানুসারে আগামী ১৫ মে শনিবার অক্ষয় তৃতীয়া। অক্ষয় তৃতীয়া হল চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি। অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে। যদি ভালো কাজ করা হয় তার জন্যে আমাদের লাভ হয় অক্ষয় পূণ্য আর যদি খারাপ কাজ করা হয় তবে লাভ হয় অক্ষয় পাপ। তাই— ৹ আমিষাহার পরিত্যাগ করা উচিত, কেননা প্রাণিহত্যা মহাপাপ। ৹ কৃষ্ণপ্রসাদ গ্রহণ করা উচিত। ৹ কৃষ্ণমন্দিরে ভোগ, চন্দন, ফুল, ফল, অর্থ ইত্যাদি দান করা উচিত। ৹ এদিন খুব সাবধানে প্রতিটি কাজ করা উচিত। ৹ কখনো যেন কটু কথা না বেরোয় মুখ থেকে। ৹ কোনো কারণে যেন কারো ক্ষতি না করে ফেলি বা কারো মনে আঘাত দিয়ে না ফেলি। ৹ তাই এদিন যথাসম্ভব কৃষ্ণকথা বলা উচিত। ৹ এদিন পূজা,জপ,ধ্যান,দান,অপরের মনে আনন্দ দেয়ার মত কাজ করা উচিত। ৹যেহেতু এই তৃতীয়ার সব কাজ অক্ষয় থাকে তাই প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হয় সতর্কভাবে। এবারের অক্ষয়তৃতীয়া সবার ভালো কাটুক – এই কামনায় করি। যে সকল তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল এ দিনে— ১) বিষ্ণুর অবতার পরশুরাম আবির্ভূত হন। ২)...

বামন অবতার

Image
বামন অবতার : - হিরণ্যকশিপু বধের পর প্রহ্লাদ অসুরকূলের রাজা হয়েছিলেন। এরপর তাঁর পুত্র বিরোচন ও তারপর বিরোচনের পুত্র বলি অসুর সম্রাট হন । বলি রাজা হিসাবে খুবুই ধার্মিক, প্রজাহিতৈষী, দাতা ছিলেন। কিন্তু জাতের স্বভাব ও অসুর গুরু শুক্রাচার্য্যের কুমন্ত্রণার কারণে তিনি বারংবার দেবতাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। অপরদিকে দেবতাদিগের মাতা তথা কশ্যপপত্নী অদিতি দেবতাদের দুর্দশা দেখে ভগবান হরির আরাধনা করেন । ভগবান হরি দেবমাতা অদিতির পুত্র রূপে আবির্ভূত হন । পাঁচ বছর বয়সে মহর্ষি কশ্যপ তাঁর এই পুত্রের মেধা দেখে গায়ত্রী মন্ত্রে দীক্ষা দান করলেন । সেই শিশু বয়ঃপ্রাপ্ত হলেও তাঁর দেহ খর্ব ও পাঁচ বছরের শিশুর মতোই হয়ে থাকলো। তাই তিনি ‘বামন’ নামে পরিচিত হলেন । নর্মদা নদীর তীরে ভৃগুকচ্ছ নামক এক স্থানে মহারাজ বলি দেবতাদের সম্পূর্ণ রূপে পরাজিত করবার জন্য এক যজ্ঞের আয়োজন করেন । দৈত্যগুরু শুক্র ছিলেন সেই যজ্ঞের পরিচালক । সেখানে বেদজ্ঞ , শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণ , দরিদ্র সকলেই এসে স্বীয় ইচ্ছা মতো দান নিয়ে বলিকে আশীর্বাদ দিতে লাগলেন। মহারাজ বলি কার্পণ্য না করে সকলের ইস্পিত বস্তু দান করতে লাগলেন । সেই সময় হরির অবতার ...

শিক্ষামূলক পোস্ট

Image
#একটি_মহামূল্যবান_গুরুত্বপূর্ণ_ও_শিক্ষামুলক_পোস্ট 🌿🌿🌿এক ব্যক্তি মাটির শ্রীবিগ্রহ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করত।সে প্রতিদিন একটি গাধার পিঠে চাপিয়ে সেগুলো বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যেত।বাজারে যাওয়ার পথে গ্রামের লোকজন গাধার পিঠে থাকা শ্রীবিগ্রহকে প্রনাম নিবেদন করত ।আর গাধাটি ভাবত এতদিনে এই মানুষগুলোর সুবুদ্ধি হয়েছে, আমাকে চিনতে পেরেছে, তাই আমাকে প্রনাম করছে।এই ভেবে সে ও মাথা নিচু করে প্রনাম গ্রহন করত।একদিন বৃষ্টি হওয়ায় লোকটি বিগ্রহ যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সেজন্য কাপড় দিয়ে ঢেকে নিয়ে যাচ্ছিল।বিগ্রহ যেহেতু দেখা যাচ্ছিল না তাই সেদিন আর কেউ প্রনাম করে নি। এটা দেখে গাধাটির অনেক রাগ হয়।🌿🌿 👉👉এখানে নীতিশিক্ষাঃ হচ্ছে,আমরা গুরু,কৃষ্ণ এবং প্রভুপাদকে ধারন করে আছি বলে সবাই আমাদের সম্মান করে, অনেক উচ্চ মানের মর্যাদায় দেখে। এই সম্মান আমাদের নিজেদের জন্য নয়। কিন্তু আমরা যখনি ভাবতে শুরু করি যে আমি ইসকন এ এসে এই করেছি ,সেই করেছি,এতজনকে ভক্ত করেছি ইত্যাদি অহংকার করি, তখনই আমরা গুরু, কৃষ্ণ ,বৈষ্ণবদের থেকে দূরে সরে যাই।আর আমাদের অবস্থা তখন ঐ গাধার মতোই হয়।আর তখনই আমরা রাগ দেখাই কেন আমাকে সম্মান করা হচ্ছে না?...

পুত্রকে কেন কৃষ্ণজ্ঞান দান করবেন ?

Image
#পুত্রকে কেন কৃষ্ণজ্ঞান দান করবেন ?  ●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●● বৈদিক শাস্ত্রের বর্ণনা অনুসারে পুৎ নামক একটি নরক রয়েছে , এবং সেই নরক থেকে যে উদ্ধার করে তাকে বলা হয় পুত্ৰ । তাই বিবাহের উদ্দেশ্য হচ্ছে পুত্ৰলাভ করা যে পিতাকে পুৎ নামক নরকে পতিত হলেও উদ্ধার করতে পারবে । যদি কারোর পিতা অত্যন্ত পাপীও হয় এবং অন্যের অভিশাপে তার মৃত্যুও হয় তবুও তার পুত্র যদি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহান ভক্ত হয় তবে অবশ্যই তিনি তার ভক্তির সুকৃতি দ্বারা তার পিতাকে এই নরকের যন্ত্রনা থেকে মুক্ত করতে পারে । এই জগতে যারা ভগবানের নির্দেশমত জীবন যাপন করেন সেই সন্তানের প্রতি উপস্থিত সমস্ত দেবতা, মহাত্মা , ঋষি ও ব্ৰাহ্মাণেরা আশীর্বাদ প্রদান করে নিশ্চিতভাবে সার্থক করে যে , শাস্ত্রের বাণী পূৰ্ণরুপে সাৰ্থক হয়েছে এই পুত্র দ্বারা। বৈদিক শাস্ত্রে নিৰ্দেশ দেওয়া হয়েছে যে , বিবাহে পত্নীর পাণিগ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে উপযুক্ত পুত্ৰসন্তান লাভ করা , যে তার পিতাকে নরকের অন্ধতম প্রদেশ থেকে উদ্ধার করতে পারবে । বিবাহের উদ্দেশ্য ইন্দ্ৰিয়তৃপ্তিনয় , পিতার উদ্ধারকারী সুযোগ্য পুত্ৰসন্তান লাভ করা । কিন্তু পুত্ৰ যদি অযোগ্য অসুর হয়ে য...